দৈনিক দর্পন
ভেজাল রেস্তোরা দাপাচ্ছে গোটা শহর
সার্থক গঙ্গোপাধ্যায়
কলকাতা : ব্যাঙের ছাতার মতো কলকাতা শহরে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য রেস্তোরা গত ১০ বছরে । আছে নামের বাহার। কিনতু খাবার ততটাই স্বাদহীন, কুচ্ছিত। বলা ভালো মানুষ পয়সা খরচ করে বিষ গলাধঃকরণ করছেন এই সকল রেস্তোরা গুলিতে।
রাস্তার খাবার নিয়ে বহু সতর্ক বার্তা দিয়ে চলেছেন রাজ্য সরকারের স্বাস্থা বিভাগ। অথচ নিম্নমানের রেস্তোরা গুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের বিন্দুমাত্র কোনো হেলদোল নেই- তার পিছনে একটাই কারণ হলো রেস্তোরার মালিকদের ট্রেড লাইসেন্স দেবার বিনিময় সরকারি দপ্তরে বেশ ভালো টাকা আয় হয় প্রতি বছর। সরকারি অফিসারদের ঘুষের টাকাটা বাদ দিয়ে অবশ্য।
যদি বেশিরভাগ রেস্তোরার রান্নাঘর পরিদর্শন করা হয় তাহলে এটাই বলা যায় সেখানে রান্না করা খাবারের ব্যবসা কোনো ভাবেই সমীচীন নয়। পুরো গা বমি করা পরিবেশে প্রত্যেক দিন রমরমিয়ে চলছে কলকাতা শহরের বুকে খাবারের এই লাভজনক ব্যবসা। শিকার লক্ষাধিক নিরুপায় মানুষ যাদের নিজে রেঁধে বাড়িতে খাবার কোনো নিয়ম নেই।
দ্বিতীয়ত যারা এই রেস্তোরা গুলিতে খাবার রান্না এবং পরিবেশন করে তাদের মৌলিক পরিষ্কার পরিছন্নতা সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী র স্বপনের দেশ লন্ডন তথা গোটা ইউরোপ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি তে ডিগ্রী অর্জিত লোক ছাড়া অন্য কারোকে এই বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেননা সরকারি নিয়ম অনুসারে। খাবারের মূল্য কিঞ্চিৎ বেশি পড়লেও তা কখনোই জনসাধারণের ক্ষমতার বাইরে অতিক্রম করেনা।
আমাদের অবস্থিতি এমনই এক গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে সরকার নিজের মুনাফা কামানোর দরুন মানুষ কে তার প্রাপ্প থেকে বঞ্চিত করতে দ্বিধা করেননা।
তৃতীয় কারণটি হলো আরো ভয়ানক। রেস্তোরার মালিকবর্গ লাভের অঙ্ক বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে নিচুমানের জিনিস বাজার থেকে পাইকারি মূল্যে কিনে থাকেন। হয়তো ভাবতেও পারবেন না অনেকে অধিকাংশ খাবারের দোকানে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কিলো দরে মরা মুরগি আনা হয়। সেই কারণে ১০০ টাকার কম দামে সেখানে চিকেন বিরিয়ানি বা অন্য জিভে জল আনা খাবার পাওয়া যায়।
যদি অসাধু রেস্তোরার মালিক আরো বছর খানেক এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে সরকারের বাধা না পেয়ে তাহলে আগামী দিনে মানুষের মধ্যে খাবার জনিত কারণে ভিন্ন রোগ মহামারীর আকার ধারণ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর সাধের লন্ডনের চেহারায় নব্য কলকাতাকে উপভোগ করার জন্য থাকবেনা সুস্থ তরুণ নাগরিক।
এই প্রতিবেদন পড়ে আপনি কি পুনরায় নিম্নমানের রেস্তোরাগুলিতে লাইন দেবেন?
No comments:
Post a Comment