Friday, 10 February 2017


                                দৈনিক দর্পন 

অটোর বাড়ন্ত  শব্দ ব্যাধিতে যাত্রীর কর্ণ ঝালাপালা মমতাময়ী প্রশাসন নির্বিকার      

                      সার্থক গঙ্গোপাধ্যায় 

কলকাতা: রাজনৈতিক যান অটোকে বাম আমল থেকেই শহরে পরিবেশ দূষন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলা হয়ে থাকে। কিনতু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায় কেউই  মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন থেকে এই তিন চাকার গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন নি বস্তি এলাকায় ভোট ব্যাঙ্ক এর কথা চিন্তা করে।  বলাই বাহুল্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করার পর কলকাতা তথা সারা পশ্চিম বাংলাতে অটো দৌরাত্ম আগের তুলনায় অনেক মাত্রায় বেড়ে গেছে।  
বর্তমানে কলকাতা শহরে অটো রিকশাগুলির শব্দ দুষণে মানুষের কান একেবারে ঝালাপালা।  ফুল ভলিউমে বাজতে থাকে কুরুচিকর হিন্দি সিনেমার গান কিম্বা নিম্ন মানের ভোজপুরি জাতিও গান।  মাথার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে অনেক প্যাসেঞ্জার আপত্তি করেন, কিনতু রাজনৈতিক দাদাদের মদতে তাদের শুনতে হয় অশিক্ষিত অটো চালকের চোখ রাঙানি। এমনকি প্রতিবাদের অপরাধে অনেক যাত্রীকে মাঝ রাস্তায় জোর করে নাবিয়ে পর্যন্ত দেয় তারা।  
অটো চালকদের এই বেয়াদপি মুসলিম এলাকায় সব চেয়ে বেশি এবং তার একটাই কারণ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যা লঘুদের পৃষ্ঠদেশে পোষকতা করে চলেছেন ভোটে জেতার অংকে ।  তিনি বোরখা পরে মসজিদ র সামনে নামাজ পড়তেও দ্বিধা বোধ করেন না।  
ধর্মতলা থেকে  পার্ক সার্কাস, লোহাপুল এবং ওরিয়েন্ট রো তে সব অটো চালক সস্তা দামের মিউসিক সিস্টেম লাগিয়ে শব্দ দূষণ করে চলেছে ট্রাফিক পুলিশের  দৃষ্টি গোচরে। 
মাসিক ঘুষের টাকার বিনিময় জোরে গান বাজানো ছাড়াও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের শাস্তি ভোগ করতে হয়না তাদের। সামনে একজনের বদলে তিন জন যাত্রী বাহন করে তারা।  সব রকম বেআইনি কাজকর্মের ছাড়পত্র মেলে তাদের ওই ঘুষের বিনিময়। মজার ব্যাপার এই যে কোনো প্রাইভেট মোটর গাড়িতে নির্ধারিত শব্দ মাত্রা   অতিক্রম করলেই পুলিশ সিগনালে তাদের কেস দেবার নানা অছিলায়  প্রস্তূত থাকেন সর্বদা। অথচ তিন চাকার  গাড়ি হলেই পুরো দমে কুরুচিকর গান বাজানো ছাড়াও সব প্রকার ট্রাফিক নীতি উপেক্ষা করলে প্রশাসনের মমতায় তাদের  'সাত খুন মাফ'।  

আপনি কি অটোর শব্দ ব্যাধির শিকার ? 

No comments:

Post a Comment